সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার প্রধান নিয়ামক স্বশিক্ষীত “মা”

সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার প্রধান নিয়ামক স্বশিক্ষীত “মা”

মো: আরিফ উল্লাহ্:

মা ই হচ্ছে একটি শিশুর প্রথম আদর্শ, প্রথম বিদ্যালয়। শিশুরা যা দেখে তাই অনুসরন ও আনুকরণ করে, কথা বলার ধরন, আচার – ব্যবহার থেকে শুরু করে সবই, তাই এ কথা বলাই যায় পরিবার গঠনে প্রধান নিয়ামক হচ্ছে মা কারন বাবার সাথে সন্তেনেরা এতো টা সময় কাটাতে পারেনা যতোখানি সময় তারা মা কে কাছে পায়। প্রতি টি সন্তান তার মাকে সর্বোচ্চ সম্মানের স্থানে আসীন করান এবং তার ভক্তি করেন, কারন সে জানে , যে মানুষ টি তার কন্নার শব্দ শোনা মাত্রই সকল কাজ বাদ দিয়ে তাকে কোলে তুলে নেয়, রাতভর নিজে না ঘুমিয়ে তাকে যে ঘুম পাড়ায়, হাজার বিরক্তের কারন হওয়ার পরেও যে মানুষ টি তাকে হাসি মুখে বুকে টেনে নেয় সেই মহিয়সী নারী আর কেউ নয় সে তার মা। পরিবারে মা যদি দেশের প্রতি, ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সৎ ও নিষ্টাবান হয় তাহলেই কেবল সেই পরিবারের কোন সদস্য ভ্রান্ত পথের পথিক হবেনা, সে কখনো তার ধর্মকে, তার দেশকে কোনো ভাবেই কারো কাছে ছোট হতে দিবেনা, এবং তখন ই আমাদের সহজ – সরল ভাই-বোন ও নিস্পাপ সহপাঠিদের কোনো দুষ্টু চক্র দেশের নামে, ধর্মের নামে ভুল পথে ধাবিত করতে পারবে না।  বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের প্রেক্ষাপটে মা জাতি তথা নারীদের অবজ্ঞা করে কখনো উন্নতির আসনে আসীন হওয়া যাবে না। তাই নারীর শিক্ষা ও তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শণ এবং তাদের যথাযথ যত্ন নেয়া আমাদের সকলের ই কর্তব্য। কিন্তু এই মায়েদের যদি প্রতিনিয়ত অবহেলা করা হয়, তাদের উপর শারীরিক ও মানষিক অত্যাচার করা হয়, তাদের বাকস্বাধীনতা হরন করা হয়, পরিবারের অন্য সদস্যদের উপস্থিতিতেই তাকে নাজেহাল করা হয় তাহলে তারা কিভাবে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে? তার পরেও মায়ের জাতি, শত ক্ষত শইতে রাজি কিন্ত সন্তানের ভবিষ্যত” পরিবার ও স্বামীর  সম্মানে সব যন্ত্রনা সয্য করে যায়। তার ই একটি প্রতিফলন ফোঁটে উঠেছে  বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো  (বি বি এস) ২০১১ সালে ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন (ভি এ ডাব্লিউ) নামক এক পরিসংখ্যানে, যেখানে  দেখা যায় ৮৭%  বিবাহিত নারী স্বামীর কারনে নির্যাতনের শিকার হয় এবং কর্মস্থলে তা ১৬.২ % । শুধু তাই নয় এ জরিপে আরো দেখা যায়, ৮.১ % নারী স্বামীর ভয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে ভয় পায়, ২০.৯% সন্তানের কথা ভেবে আইনি পদক্ষেপ  নেয় না ও ১৬.৫% নারী নিজের ও পরিবারের সম্মানের দিক বিবেচনা করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া থেকে বিরত থাকে। এমন আবস্থায় তারা নিজেদের কে   অস্থিত্বহীন মনে করে,   পারিবারিক বিষয়ে মত প্রকাশ থেকে বিরত থাকে।   নিজ থেকে কিছু করার মনোভাব হারিয়ে হেলে,  নিজেকে পরিবারের বোঝা ভাবতে শুরু করে ।  নিজের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলে এবং সদা নিজেকে আড়াল করে রাখতে চায়,  জীবনের মায়া হারিয়ে নিজেকে তার স্বপ্নের রাজ্জ্যের রাজরানী থেকে অভিশপ্ত চাকরানী মনে করে, এরই সাথে তার মনের ছোট – বড় সকল স্বপ্ন জেগে ওঠার আগেই নষ্ট হইয়ে যায়। কিন্তু এমন তো হবার কথা নয়, তার পরেও কেনো এমন আমানবিক অত্যাচার ? পৃথিবীর স্রেষ্টঁ ধর্ম ও পূরনাঙ্গ জীবন বিধান ইসলাম  তো “মা”কে সবার উপরে স্থান দিয়েছেন। আমাদের বাংলাদেশ সংবিধানও নারী-পুরুষ সবাইকে সমান মর্যাদা, সম অধিকার দিয়েছেন। তবে কেনো এমন হবে?এই নারী তো সেই মায়ের জা্তি যে মা মৃত্যুর ঝুকি নিয়ে তার সন্তানকে জন্ম দেয়, যে মা সন্তানের মুখের হাসির জন্য নিজের সকল আশা, আকাঙ্ক্ষা বিলিন করে দেয়,এই মা তো সেই মা যে নিজের মুখের অন্ন তার সন্তানের মুখে তুলে দেয়। এ নারীই সেই মা যার কুলে মাথা রাখলে পৃথিবীর সকল দুশ্চিন্তা – দুর্ভাবনা নিমিসেই মলিন হইয়ে যায় , বয়ে যায় এক হীম শীতল হাওয়া, দুস্প্রাপ্য ঘোম তখন যেন চীর চেনা, এ যেন পৃথিবীর বোকে ভেহেস্তের একটি অংশ। হাজার কষ্ট, দূর্দশার পরেও সন্তানের মুখের হাসি দেখে সব ভুলে যায়। হাজারো অপরাধের পরেও সন্তানকে কোলে তোলে নেয় , সেই মায়ের জাতি এই নারী। তাহলে আজ কেনো নারীরা এতো অত্যাচার, লাঞ্ছনার পাত্র হইয়ে দাড়াল? এমতাবস্থায় আমাদের উচিত তাদেরকে; সাহায্যের হাত বাড়ায়ে দেয়া ও তাদের মনোবল বৃদ্ধি  করা, আইনে তার প্রতিকার কি তা সম্পর্কে ধারনা দেয়া, তার অধিকার সম্পর্কে তাকে জানানো, সর্বপোরি সচেতনতা বৃদ্ধি করা। আজকের ছোট্ট জারা আগামীর প্রধানমন্ত্রী , নাসা বিজ্ঞানী, এভারেস্ট জয়ী হতে পারে এবং দেশকে পৃথিবীর কাছে উপস্থাপন করতে পারে। তাই আমাদের উচিত “নারী অবহেলা” নামক যে অভিশাপ আমাদের উন্নয়ন কে বাধাগ্রস্থ করছে, সে অভিশাপকে চীরতরে মুছে ফেলা, নারীদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান, নারীর শিক্ষা নিশ্চিতকরন, প্রকৃত ধর্মীয় জ্ঞান ও ইতিহাস জানার পরিবেশ সৃস্টি করা, নারী নির্যাতন হ্রাস (শারীরিক ও মানষিক) এবং তাদের কে সামাজিক মর্যাদা দিতে  পারলেই আমরা স্বশিক্ষীত “মা” পাবো আর স্বশিক্ষীত মা ই কেবল একটি দেশকে, একটি জাতিকে সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী করে তুলতে পারে।

লেখক: শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ (প্রথম ব্যাচ), কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিarifcbiu@gmail.com

(120) বার এই নিউজটি পড়া হয়েছে




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE