রাখাইনের সহিংসতা মানবাধিকারের জন্য ‘দুঃস্বপ্নের’ জন্ম দিয়েছে: গুতেরেস

রাখাইনের সহিংসতা মানবাধিকারের জন্য ‘দুঃস্বপ্নের’ জন্ম দিয়েছে: গুতেরেস

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘রাখাইনে সহিংসতা রোহিঙ্গাদের খুব দ্রুতই বিশ্বের বড় উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীতে পরিণত করেছে, যা মানবিকতা ও মানবাধিকারের জন্য ‘দুঃস্বপ্নের’ জন্ম দিয়েছে।’

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অব্যাহত গণহত্যা-‘জাতিগত নিধন’ চালানোর প্রেক্ষিতে আলোচনার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য রাষ্ট্রের বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, পালিয়ে আসা, যাদের বেশিরভাগ নারী, শিশু ও বয়স্ক, তাদের কাছ থেকে আমরা রক্ত হিম করা বক্তব্য পেয়েছি। তাদের বর্ণনায় নির্বিচারে গুলিবর্ষণ, বেসামরিকদের বিরুদ্ধে ভূমি মাইন ব্যবহার ও যৌন সহিংসতাসহ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও মানবাধিকারের গুরুতর লংঘনের কথা বলে।

জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের উপর যে সহিংসতা হয়েছে তা মধ্যাঞ্চলেও বিস্তৃত হতে পারে এবং সেখানে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের বৈরি আচরণে উদ্বেগ প্রকাশ করেন গুতেরেস এবং অবিলম্বে সেখানে মানবিক সহায়তা প্রবেশের দাবি জানান। রোহিঙ্গা সংকটের কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোসহ পুরো অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক অসন্তোষের ঝুঁকি দেখা দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহসাচিব।

তিনি বলেন, রাখাইনে সেনা অভিযান বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদে কোন বৈষম্যছাড়াই নিজ গ্রামে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতিও আহবান জানান জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

এর আগে গত ১১ আগস্টে রাখাইন রাজ্যে সেনা মোতায়েনের পর ১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সরকারি বাহিনীর চলমান নির্মম নির্যাতনের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে এ বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছিল নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য এবং অস্থায়ী সদস্য সুইডেন।

তবে ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইউ কিউ জেইয়া দেশটির সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই বৈঠকে অংশ নেবেন না মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি। আর বুধবার বৈঠক শেষে আরাকানে চলমান রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলো।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনার জন্য ফের বৈঠক ডাকতে অনুরোধ করেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের তিন স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ সাত দেশ। নিরাপত্তা পরিষদের তিন স্থায়ী সদস্য ছাড়া অন্য দেশগুলো হচ্ছে- মিসর, কাজাখস্তান, সেনেগাল ও সুইডেন।

 

উল্লেখ্য, গত ১১ আগস্টে রাখাইন রাজ্যে সেনা মোতায়েনের পর ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ‘জাতিগত নিধন’ শুরু করে। ঘটনায় প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে রোহিঙ্গার সংখ্যা ৪ লাখ ৮০ হাজারে গিয়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর সমন্বয় কমিটি।

সারা বিশ্বে ইউএনএইচসিআর কতৃক নিবন্ধিত ১৭.২ মিলিয়ন শরণার্থীর ৩০% এখন বাংলাদেশে। এরই মধ্যে চলমান রোহিঙ্গা ঢল অব্যাহত থাকলে শরণার্থীর এ সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলেও সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। এত সংখ্যক শরণার্থীর দায়িত্ব তাদের পক্ষেও নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

(18) বার এই নিউজটি পড়া হয়েছে




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE