মানুষ কেন লুকিয়ে লুকিয়ে পর্নো দেখে?

মানুষ কেন লুকিয়ে লুকিয়ে পর্নো দেখে?

সম্প্রতি আমেরিকার রাজনীতিবিদ টেড ক্রুজের টুইটার থেকে একটি পর্নো অ্যাকাউন্টে লাইক দেওয়া হয়। ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে উঠেছে সংবাদ মাধ্যমগুলোতে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে অনেকেই অনেক মতামত দিয়েছেন। কেন মানুষ টুইটার বা ইনস্টাগ্রামের মত নিরীহ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে পর্নো দেখেন, এ ব্যাপারে মতামত দেন বিভিন্ন সেক্স থেরাপিস্ট। চলুন দেখে আসা যাক কারণটি আসলে কী।

আমেরিকার বিভিন্ন সেক্স থেরাপিস্ট এটাই জানান, যে পর্নো দেখার ব্যাপারটা লুকাতে মানুষ হেন কাজ নেই যা করে না।

“আমার এমন সব ক্লায়েন্ট ছিল যারা টুইটার ব্যবহার করে পর্নো দেখত,” জানান হাওয়াই এই সাইকোলজিস্ট এবং সেক্স থেরাপিস্ট জ্যানেট ব্রিটো। “এই ঘটনাটা বেশ দেখা যায়, কারণ টুইটার ব্যবহার সহজ- একই কথা বলা যায় টাম্বলার, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের জন্যও যেগুলো আসলে পর্নোর জন্য প্রচলিত নয়।”

পর্নোহাব ছাড়াও এসব সোশ্যাল মিডিয়া তারাই বেশি ব্যবহার করেন তাদের সম্পর্কে আগে পর্নো দেখা নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। এক্ষেত্রে তারা যে পর্নো দেখছেন, ব্যাপারটাকে লুকানো সহজ হয়।

“সম্পর্কে আস্থা থাকলে সাধারণত কেউ সঙ্গীর ব্রাউজিং হিস্ট্রিতে কী আছে সেটা ঘাঁটতে যায় না,” বলেন ব্রিটো।

পর্নো দেখার ব্যাপারটাকে ঢাকতে অনেকেই অনেক উপায় ব্যবহার করেন। কেউ কেউ ব্রাউজারের ইনকগনিটো মোড ব্যবহার করেন, জানালেন কিম্বারলি রেজনিক অ্যান্ডারসন, লস অ্যাঞ্জেলেসের একজন সেক্স থেরাপিস্ট।

“স্মার্টফোনে নিজের পরিচয় গোপন করার ডজনকে ডজন অ্যাপ আছে,” বলেন তিনি। “কিন্তু আমি আমার ক্লায়েন্টদেরকে বলি, পর্নো দেখার ক্ষেত্রে আসলে লুকিয়ে থাকার কোনো উপায় নেই। ইন্টারনেটে আসলে কোনো কিছুই প্রাইভেট নয়।”

যখন আপনার সঙ্গী ধরে ফেলবেন আপনি এমন কাজ করেছেন, তখন পর্নো দেখেছেন এর চাইতেও বড় অপরাধ ধরা হবে পর্নো দেখে আবার সেটা লুকানোর চেষ্টা করেছেন কেন, জানান রেজনিক অ্যান্ডারসন।

 

“অনেক মানুষ, বিশেষ করে নারীরা জানান, যে মিথ্যে বলা এবং লুকিয়ে লুকিয়ে কাজটি করা পর্নো দেখার চাইতেও বেশি গুরুতর এবং অপমানজনক,” তিনি জানান। “অনেক নারীই পর্নোতে দেখানো আচরণ এবং বিষয়গুলোতে অপমানিত হন। এমন ঘটনা ঘটলে তারপরে কী করবেন, সেটা অনেক জুটির জন্যই জটিল একটা বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।” এ সময়ে তাদের আলোচনা করে ঠিক করে নেওয়া দরকার পর্নো দেখার ব্যাপারে তারা একে অপরের থেকে কী আশা করেন। অনেক সময়েই যৌনতার ব্যাপারে তাদের মতাদর্শ মেলে না, তখনই সমস্যাটা হয়।

“কারণ যেটাই হোক, আমাকে যখন কোন ক্লায়েন্ট বলে যে তারা লুকিয়ে লুকিয়ে পর্নো দেখেন, তাদের জন্য আমার কষ্ট হয় কারণ সাধারণত তাদের মনে হয় তারা সম্পর্কে আটকা পড়ে আছেন,” বলেন ব্রিটো।

এই সমস্যা সমাধানে কী করতে পারে একটি জুটি? জ্যানেট ব্রিটো এক্ষেত্রে কিছু উপদেশ দেন। “তাদের সম্পর্কে কী কী চাহিদা পূরণ হচ্ছে না তা নিয়ে কথা বলা এবং চাহিদা পূরণের উদ্যগ নেওয়া দরকার”, বলেন তিনি।

পর্নো লুকিয়ে রাখা- অথবা যৌন চাহিদার ব্যাপারগুলোকে গোপন রাখাটা একটা সময়ে সম্পর্ক নষ্ট করে দিতে পারে, বলেন নিউ ইয়র্কের থেরাপিস্ট ক্রিস কিংম্যান, যার বিশেষত্ব হলো পর্নো অ্যাডিকশন।

“আমি আমার ক্লায়েন্টদেরকে বলি, সঙ্গীর সাথে কথা বলে ব্যাপারটা বোঝাপড়া না করে উল্টো তাকে লুকিয়ে কাজটা করা তাদেরই ক্ষতির কারণ হবে,” বলেন তিনি। “লুকিয়ে থাকার অভ্যাস দূর করার প্রক্রিয়া শুরু করা দরকার। আপনার এই লজ্জা থেকে বের হয়ে আসতে হবে এবং নিজের উন্নতি করতে হবে।”

কিংম্যান কাপলদেরকে বলেন, তাদের সম্পর্কে পর্নোর অবস্থানটা আসলে কী, সেটার ব্যাপার আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আর নিজ নিজ যৌন চাহিদার ব্যাপারেও তাদের মাঝে স্বচ্ছতা থাকা দরকার। “আপনি যখন লুকোচুরি বাদ দিয়ে সততা বজায় রাখবেন, বিশেষ করে জীবনের যৌনতা সংক্রান্ত দিকে, তখন আপনি নিজেকে নিয়ে এবং নিজের সম্পর্ক নিয়েও অনেক স্বস্তিতে থাকবেন।”

সূত্র: Huffington Post

(1130) বার এই নিউজটি পড়া হয়েছে




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE