নিম্নচাপ দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত

নিম্নচাপ দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি নিম্নচাপ অবস্থায় সকালে সীতাকুন্ডের কাছ দিয়ে চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করে। এটি বর্তমানে আরও দুর্বল হয়ে সীতাকুন্ড ও কাছাকাছি উপকূলীয় এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে অবস্থান করছে।

এটি বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

রবিবার আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বৃষ্টি কমে গিয়ে এখন ধীরে ধীরে দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

প্রাকৃতিক নানা কারণে সমুদ্রের একটি অঞ্চলে কেন্দ্রাভিমুখী ঝোড়ো হাওয়ার অঞ্চল বা লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। ক্রমান্বয়ে এ ঝোড়ো হাওয়ার অঞ্চলটি শক্তি সঞ্চয় করে করে (বাতাসের গতি বৃদ্ধি পেয়ে) সুস্পষ্ট লঘুচাপ, নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ ও শেষে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপ হচ্ছে একটি ঝোড়ো হাওয়ার অঞ্চল, যেখানে বাতাসের গতিবেগ ৫১ থেকে ৬১ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে।

বাতাসের গতিবেগ ৪১ থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে হলে তাকে বলে নিম্নচাপ। এছাড়া বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩১ থেকে ৪০ কিলোমিটার হলে বলে সুস্পষ্ট লঘুচাপ। আর লঘুচাপে বাতাসের গতি থাকে ১৭ থেকে ৩০ কিলোমিটার। বাতাসের গতিবেগ ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটারের মধ্যে হলে তাকে বলে ঘূর্ণিঝড়।

বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রমরত নিম্নচাপটি সামান্য উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে দুর্বল হয়ে বর্তমানে সীতাকুন্ড ও কাছিকাছি উপকূলীয় এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে অবস্থান করছে। এটি বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।

রবিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

ঢাকায় শনিবার দিনভর বৃষ্টি হয়েছে, বৃষ্টি ছিল রাতেও। তবে রবিবার সকাল থেকে ঢাকায় বৃষ্টি নেই। আকাশও ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়ে রোদ দেখা দিচ্ছে। রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামের হাতিয়ায়। সেখানে ১৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে ঢাকায় ২১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে রংপুর বিভাগ ছাড়া প্রায় সারাদেশেই বৃষ্টিপাত হয়েছে

(165) বার এই নিউজটি পড়া হয়েছে




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE