কক্সবাজারে নির্মিত হচ্ছে বিশ্ব মানের ‘বীচ ওয়াকওয়ে’ সড়ক

কক্সবাজারে নির্মিত হচ্ছে বিশ্ব মানের ‘বীচ ওয়াকওয়ে’ সড়ক

খবরবিতান ডেস্ক:
পৃথিবী র্দীঘ বেলাভুমি কক্সবাজার সৈকতকে আরো আর্কষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন করতে বালিয়াড়ি আর ঝাউবীথির বুক চিরে নির্মিত হচ্ছে বিশ্ব মানের বীচ ওয়াকওয়ে। এই বীচ ওয়াকওয়ে সড়কটিকে করা হবে দৃষ্টি নন্দন সড়ক। অপরদিকে পর্যটন শহরের প্রবেশদ্বার নামে পরিচিত কলাতলী মোড়কে সাজানো হচ্ছে নতুন সাজে। নেয়া হয়েছে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প। এখানে বসে পর্যটকরা নিজের সঙ্গীকে নিয়ে সমুদ্র দেখতে দেখতে মনের আনন্দে কপি ও চা পান করতে পারবে। এমনকি পর্যটকরা অনুকূল আবহাওয়ায় মুক্ত আকাশে বসে মোবাইল ও ল্যাপটপ ব্যবহার করতে পারবে। এই বীচ ওয়াকওয়ে সড়কের দুই পাশে ফুলের টপ, কপি শপ, চ্যাঞ্জিং রুম, সাইকেল ক্যান্টিন, বাথ রুম ব্যবস্থা থাকবে। বিকাল বেলার পর্যটকদের জন্য স্পেশাল বিনোদন ব্যবস্থা গড়ে তুলার পরিকল্পনা রয়েছে। সড়কের দুই পাশে থাকছে পর্যাপ্ত লাইটিং, ল্যান্ড স্কেপিং, ট্রি প্ল্যান্টেশন তথা মনোনুগ্ধগর বাগান। পর্যটকদের সুবিধা ও বিনোদনমাত্র আরো বাড়াতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্ট থেকে কলাতলী সৈকত পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে বিকল্প বীচ ওয়াকওয়ে। প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীনে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ আগামী জানুয়ারী নাগাদ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যটকবান্ধব প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর ১৬ ইসিবিকে। ‘সাইকেলওয়ে-ওয়াকওয়েসহ পর্যটকদের জন্য অন্যান্য সুবিধা নির্মাণ’ প্রকল্পটি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। উন্নত বিশ্বের সৈকতের সাথে তাল মিলিয়ে করা হয়েছে বেশ কিছু ড্রয়িংও। ফাইলটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন। আগামী জানুয়ারী থেকে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে শুরু হবে ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজ।

cox-cycleway-walkway-2

সড়ক ও জনপদ বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, এই সড়কের দুই পাশে কপি শপ, চ্যাঞ্জিং রুম, সাইকেল ক্যান্টিন, বাথ রুম ব্যবস্থা থাকবে। বিকাল বেলার পর্যটকদের জন্য স্পেশাল বিনোদন ব্যবস্থা গড়ে তুলার পরিকল্পনা রয়েছে। সড়কের দুই পাশে থাকবে পর্যাপ্ত লাইটিং, ল্যান্ড স্কেপিং, ট্রি প্ল্যান্টেশন তথা মনোনুগ্ধগর বাগান। সম্প্রতি সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এই স্থানটি সম্প্রতি পরিদর্শন করেছেন।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী রানা প্রিয় বড়–য়া জানান, ইতিমধ্যে তারা প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফাইল প্রসেস হচ্ছে। চূড়ান্ত পাশ হলেই কাজ শুরু হবে। প্রকল্পের কাজ শেষ হতে ৬ মাস লাগতে পারে। তার মতে, সৈকতকে আরো দৃষ্টি নন্দন ও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করতে সড়ক ও সেতু মন্ত্রনালয় কাজ শুরু করেছেন। সাগরকূল ঘেঁষে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পর্যটকদের বিনোদনমাত্র আরো অনেকগুনে বাড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

cox-cycleway-walkway-1

অপরদিকে শহরের প্রবেশদ্বার নামে পরিচিত কলাতলী মোড়কে নতুন সাজে সাজানোর জন্য সাড়ে তিন কোটি টাকার দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসককে।
এ শহরে আগত পর্যটকদের প্রথম দর্শনকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্যেই শহরের এই অংশকে সাজানো হচ্ছে নতুন করে। এই প্রকল্পে থাকবে চার লাইনের রাস্তা, ফুলের বাগান,পর্যটকদের বসার চেয়ার, পর্যাপ্ত ফুটপাথসহ আকর্ষণীয় ফোয়ারা এবং ম্যুরাল।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার শহরে আসার সময় পর্যটকরা কলাতলীতে এসেই সমুদ্রের প্রথম দর্শন পেয়ে বিমোহিত হন।

তবে কলাতলি মোড়ের ‘জ’ ভাস্কর্য থেকে সাগর পাড় পর্যন্ত অপ্রস্থ সড়ক এবং অপরিকল্পিত স্থাপনাগুলোই ছিল পর্যটন শহরটির সবচেয়ে শ্রীহীন দৃশ্য।একজন পর্যটকের কাছে প্রথম দর্শনে এমন সড়কটির অসহনীয় পরিবেশের দৃশ্য ছিল নেতিবাচক।

এ কারণেই শহরের প্রবেশদ্বারকে সৌন্দর্যমন্ডিত করার দাবী উঠে বিভিন্ন মহল থেকে।এরই প্রেক্ষিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কিছুদিন আগে আড়াই কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ একটি প্রকল্প প্রস্তাব পেশ করা হয় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে।

পরে প্রকল্পটি আরো সম্প্রসারণ করা হয়।গত রবিবার সাড়ে ৩ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি পাশ হয়েছে বলে জানান কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন।

জেলা প্রশাসক সুত্র জানায়, ইতোমধ্যে এ সড়কের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ শুরু হয়েছে। একারণে সড়কটি প্রশস্ত করতে উচ্ছেদ করা হয়েছে বেশ কিছু অবৈধ দোকান পাটও।

উচ্ছেদের পর সড়কটির দৃশ্যই এখন বদলে গেছে।কমে গেছে যানজট, বেড়েছে সৌন্দর্য। কলাতলী মোড় থেকে সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং পয়েন্ট পর্যন্ত এ সড়কটি এতদিন ঘিঞ্জি পরিবেশে ছিল।

অথচ পর্যটকদের প্রথম দর্শনই হচ্ছে এ সড়কটি। তাই সড়কটিকে আকর্ষণীয় করা জরুরী হয়ে পড়েছে।এ কারণে অবৈধ স্থাপনাসমূহ উচ্ছেদ করা হয়েছে।

উক্ত সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আওতায় কলাতলী ‘জ’ ভাস্কর্য থেকে সৈকতের তীর পর্যন্ত ১৭০ মিটার দীর্ঘ এবং ৪০ মিটার প্রস্থের সড়কটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে।এ কাজে চাওয়ার চেয়ে পাওয়া আরো বেশি হয়েছে।
এখানে বসে পর্যটকরা নিজের সঙ্গীকে নিয়ে সমুদ্র দেখতে দেখতে মনের আনন্দে চা পান করতে পারবে। এমনকি সাংবাদিকরাও অনুকূল আবহাওয়ায় মুক্ত আকাশে বসে ল্যাপটপে খবর লিখে পাঠিতে দিতে পারবে।

এছাড়া যাদের অফিসে থাকা বাধ্যতামূলক নয়, তারাও এখানে খোলা বাতাসে কিছুক্ষণ বসে সেরে নিতে পারবে জরুরী কাজ।এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন বলেন-একজন পর্যটকের কাছে প্রথম দর্শনই অত্যন্ত আকর্ষণীয় হওয়া উচিৎ।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন- এই প্রকল্পের বাইরেও জেলা পরিষদের ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কের দুই পার্শ্বে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রশস্থ নালা। তিনি জানান, কলাতলী মোড়ের ‘জ’ ভাস্কর্যটি ভেঙ্গে একটি আকর্ষণীয় ফোয়ারা নির্মাণ করা হবে।

সেই সাথে নির্মাণ করা হবে ম্যুরালও। জেলা প্রশাসক আরো জানান, সন্ধ্যার পর পর্যটকরা এখানে সময় কাটাতে পারবেন।থাকবে বিনামূল্যে ওয়াইফাই এর ব্যবস্থা।

সম্প্রতি তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকও এ স্থানটি সম্প্রতি পরিদর্শন করেছেন।মন্ত্রী এটি আকর্ষণীয় করে তোলার ব্যাপারে সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।

cox-cycleway-walkway-3

(1116) বার এই নিউজটি পড়া হয়েছে




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE