এমপি বদির হাতে মারধরের কথা অস্বীকার করলেন প্রকৌশলী মিনহাজ

এমপি বদির হাতে মারধরের কথা অস্বীকার করলেন প্রকৌশলী মিনহাজ

আবদুল্লাহ নয়ন :
উখিয়া উপজেলার মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির হাতে মারধরের শিকার হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোস্তফা মোহাম্মদ মিনহাজ।

স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলী মিনহাজ কাছে দাবি করেছেন, মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভা শুরুর কথা ছিলো সকাল এগারোটায়। ঐ সময় তার দপ্তরে কিছু কাজ বাকি থাকায় তিনি যথা সময়ে সভায় উপস্থিত হতে পারেননি। সভায় তার উপস্থিতি না দেখে সংসদ সদস্য বদি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল দাশ নিজেই তার কক্ষে এসে হাজির হন। এসময় এমপি বদি তাকে সভায় অনুপস্থিতির কারন জানতে চেয়ে বকাঝকা দেন। প্রকৌশলী ফাইলের স্বাক্ষরের কাজ করছেন বলে জানালে এমপি বদি, ইউএনও ও তিনি সভাকক্ষে চলে যান।

তিনি আরও জানান, সভা শেষে তিনি সংসদ সদস্যের সাথে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন। এবং বন্য কবলিত সড়ক উপ-সড়ক ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদও দেন বদি।

প্রকৌশলী মিনহাজ বলেন, এমপি বদির সাথে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় পরিদর্শনকালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ব্রীজ, কালবার্ট ও বাড়ি-ঘর মেরামতের জন্য দেড় লাখ টাকা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদানও দিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।

তিনি দাবি করেন সংসদ সদস্য বদি যখন তার রুমে আসেন ঐ সময় তারা ৩ জন ছাড়া আর কেউ ঐ রুমে ছিলোনা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংসদ সদস্য কর্তৃক তাকে মারধরের কথা প্রচার করায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন।

প্রকৌশলী মিনহাজ আরও জানান, যেখানে মারধরের কোন ঘটনা বা পরিস্থিতি হয়নি সেই ঘটনাটি ভিন্নভাবে প্রচার করা দুঃখজনক। কারও কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক তথ্য জেনে সংবাদ প্রচারের জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি তিনি অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, এমপি বদির নির্দেশনায় ভালোভাবেই কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। এছাড়াও উখিয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে থাকা কাজগুলো দ্রুত শেষ করার ব্যাপারে এমপির নির্দেশ যথাযত মানা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ঘটনার সময় উপস্থিত উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল বিশ্বাস বলেন, ওইদিন আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে এমপি মহোদয়ের সাথে প্রকৌশলীর একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে। মারধরের মতো কোন ঘটনা ঘটেনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এমপি আবদুর রহমান বদি বলেন, কাউকে মারধর করা জণপ্রতিনিধির কাজ নয়। তবে কারও কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাটা জনপ্রতিনিধির কাজের মধ্যে পড়ে। কোন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা যদি স্বচ্ছতার সাথে কাজ না করেন তাকে সেখান থেকে বদলী করে অন্যত্র পাঠানোর সুপারিশ করতে পারেন সংসদ সদস্য হিসেবে। কিন্তু কারও শরীরে হাত তোলার মতো কাজ আমি কেন করবো?

সমন্বয় সভায় না আসায় উপজেলা প্রকৌশলীকে মারধর করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে এমপি বদি বলেন, এমন কথা কিছু পরিচিত সাংবাদিক ও পরিচিত গণমাধ্যম বলছে। কই এমন কথা’তো প্রকৌশলী বলছেন না। প্রকৌশলীকে আমি মারধর করেছি কথাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে হ্যা, রাগের মাথায় আমি বকাঝকা করেছি। আমি মনে করি জনগণের জন্য কাজ আদায় করে নিতে সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে মাঝে মাঝে একটু রাগারাগি হয় এসব পরে ঠিক হয়ে যায়।

(1345) বার এই নিউজটি পড়া হয়েছে




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE