আপন ঘর

আপন ঘর

মো: আরিফ ঊল্লাহ:

বন্ধু তোদের ছেড়ে আমি যাব অচিনপূরে,

দেখবো না আর তোদের মুখ,  পাবেনা আমায় খোঁজে।

তোদের ছেড়ে শূন্য ঘরে থাকবো কেমন করে?

কার সাথে হাসবো আমি দু:খ বলবো কারে?

সাড়ে তিন হাত জায়গা দিবে,  চার পাশে মাটি,

দিনের আলো যায়না সেথায়, অন্ধকার ই সাথি।

তিন টোকরা কাপড় দিবে আতর লোবান মাখি।

এই টুকোতেই বিদায় দিয়ে আসবে সবাই চলি।

অনেক দু:খ দিয়েছি তোদের পারলে ক্ষমা করিস।

পারলে আমার ঘরের পাশে একটু করে বসিস।

 

মোনাজাত

মো: আরিফ ঊল্লাহ

আল্লাহ তোমার দরবারেতে তুলেছি দুই হাত,

পাপি আমি তাও জানি মোরে করো মাপ।

সব কিছুর মালিক তুমি, তুমি দায়াবান,

তোমার দায়া প্রার্থী আমি ,মোরে করো দান।

তুমি ছাড়া এ ধরাতে আর কেহ নাই,

কার কাছে বলব আমি সরল পথ চাই।

গুনার জলের মাছ আমি চতুর পাশে পাপ,

গুনাহ করা সভাব আমার, নাহি কোন লাজ

।তাইত তোমার দরবারেতে তোলেছি দুই হাত।

তুমি ছাড়া এ ধরাতে নেই কোনো সিহায় ।

কার কাছে যাব আমি বল তুমি আমায়?

সান্নিধ্য চাই তোমার, চাইনা কিছু আর,

বল আমায় কেমনে পাবো সান্নিধ্য তোমার?

 

প্রত্যয়ী সেনা

মো: আরিফ ঊল্লাহ

 

মোরা অন্ধকারের উজ্জ্বল প্রদীপ  প্রত্যয়ী বীর সেনা,

মোরা আনবো বিজয় কলা-কৌশলে হবোনা কারো হেলা।

 

মোরা একঝাক তরুণ প্রত্যয়ী বীর সেনা।

 

বিশ্বের বোকে স্বাধীনভাবে চলবো মোরা চলবো গো,

দেখবে সবাই বলবে মোদের,  ওরা বাংগালী বীর সেনা গু।

মোরা স্বাধীনতাকামী, স্বাধীনতা চিনি, চিনি না পরাজয়।

অনল পাথার পাড়ি দিয়ে আনবো ই আনবো জয়।

 

মোরা একঝাক তরুণ প্রত্যয়ী বীর সেনা।

এক লোকমা ভাত

মো: আরিফ ঊল্লাহ

বৃস্টিময় সকাল,  দমকা হাওয়া বইছে, মেঠো পথ ধরে হেটে যাচ্ছি, হাটতে হাটতে বাজারের খানিক সামনে এসে দেখি কিছু মানুষ একজোট হইয়ে দাঁড়িয়ে আছে,  ভেবেছিলাম কোন বেদ – বেদী হয়তো সাপের খেলা দেখাচ্ছে অথবা বিশাল আকারের কোনো মাছ আজ বাজারে এসেছে, কিন্তু না, বাতাসের সাথে ভেসে আসছিল কান্নার শব্দ। এবার পথ পরিবর্তন না করে পারলাম না, একটু যেতেই শুনি কেউ করুণ কন্ঠে আর্তনাদ করছে;

– আরে আর নো- মাইজ্জ, (আমাকে আর মেরো না)।

– আরে আর নো মাইজ্জ,

– আই আর ন— গইজ্জোম। (আমি আর এমন করবো না)

তার পর আমার পাশ দিয়ে ৮-৯ বছরের এক শিশু কান্না করতে করতে করতে যাচ্ছে,আর বলছে

-ওমা অনে হড়ে? আব্বারে মারিফেলের। (আম্মাজান আপনি কোথায়? আব্বুকে মেরে ফেলতেছে।

ভিড় ঠেলে লোকটিকে দেখার ব্যর্থ চেস্টা করলাম কারণ তার চেহারা দেখতে পাইনি, না দেখার পেছনের কারণ হল, তাকে এমনভাবে প্রহার করা হইয়েছে যে, সে মাথা তুলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দেখলেও চিন্তে পারতাম না। তখনি এক মহিলা (২৫-২৮) এক লোঙ্গিওয়ালার পায়ে ধরে সে কি আর্তনাদ ! কিন্তু পাষণ্ড বহদ্দারের ( টলারের মালিক) মনে তার এই আহাজারি পৌঁছেনি , সেই মহিলার পাশে নিষ্পাপ আরো দুই সন্তান যাদের চোখেরজল আর নাকের পানি মিলে একাকার, কিন্তু নিষ্ঠুর   লোঙ্গিওয়ালার   মনে যে দয়া হয়না, বরং চিতকার করে বলছে,

– ইতে এত্তোর সাহস হত্তু পাইলো???  (সে এতো সাহিস কোথায় পেল?).

– আর মাছ আরে নো- হই বেচি ফেলাইলো!!! (আমার মাছ আমাকে না বলে বিক্রি করে দিলো! )

তারপর ঐ মহিলাকে উদ্দেশ্য করে বলছে,

-তরে আর তর জামাইরে হাস্যবাজার (কক্সবাজার) আর নো- দেহি ফান। (তোকে আর তোর জামাইকে আর কখনো কক্সবাজারে যেন না দেখি।). তারপর সেই মাঝিকে ছেড়ে দায়া হলো, তাকে রিক্সায় বসানোর অনেক চেস্টা করা হলেও সে নিজের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারছিলনা। শেষ পর্যন্ত তাকে রিক্সার পাটাতনে রাখা হলো কারণ বসার ক্ষমতা যে সে হারিয়ে ফেলেছে। হায়রে গরিব!লোকটিকে রিক্সায় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আর পাশে ছোট ছোট নিষ্পাপ শিশু গুলির কান্নায় সারা মহল্লা যেন স্থবির হইয়ে গেল।

খানিক পর জানতে পেলাম ঐ ব্যক্তি মাছ ধরার টলারের মাঝি, সে বহদ্দারকে (টলারের মালিক কে) না জানিয়ে মাছ বিক্রি করায় তার উপর এমন অমানবিক অত্যাচার চালানো হইয়েছে। বৈরী আবহাসে ও্যার কারনে বিগত ৬মাস বেকার ছিল, বৃদ্ধ মা, তিন সন্তান ও তার স্ত্রীকে তার পরিবার, যাদের মুখে এক লোকমা ভাত দিতে গিয়ে তাকে চুরির মতো অপরাধ করতে হলো।  এর পর মাঝিকে আর আমাদের মহল্লায় দেখা যায়নি।

লেখক: শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ (প্রথম ব্যাচ), কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

arifcbiu@gmail.com

 

(117) বার এই নিউজটি পড়া হয়েছে




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE