অতিরিক্ত কাজের চাপ? জেনে নিন কীভাবে মানিয়ে নেবেন নিজেকে

অতিরিক্ত কাজের চাপ? জেনে নিন কীভাবে মানিয়ে নেবেন নিজেকে

অফিসের অতিরিক্ত কাজের চাপে অনেকেই একদম দিশেহারা হয়ে যান। কীভাবে সবকিছু সামলাবেন বুঝে উঠতে পারেন না বলে অনেক বেশী মানসিক চাপের মাঝে হাবুডুবু খেতে থাকেন। অফিসের কাজ গুছিয়ে নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত কাজে মন দেওয়াটা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়ে অনেকের জন্য। অফিসে কাজের চাপ কমবেশি সবসময় থাকবেই, কিন্তু এর সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া শিখতে হবে এবং সকল কাজ সুন্দরভাবে গুছিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে শেষও করতে হবে।

তবে কাজের চাপে পড়ে যদি খুব বেশী হতাশ অথবা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন কেউ, সেক্ষেত্রে তিনি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন সব দিক দিয়েই। নিজের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে, তার স্বাস্থ্যগত সমস্যা,মানসিক সমস্যা সহ বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দেওয়া শুরু করবে।

নিজেকে কাজের চাপের সাথে মানিয়ে নেওয়া, অভ্যস্ততা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খুব সহজ কিছু নিয়ম মানতে পারলেই সহজ হয়ে যাবে সবকিছু।

১/ সহকর্মীর সাথে আলোচনা করুন

কাজের অতিরিক্ত চাপ কিংবা কাজ বুঝে উঠতে সময় লাগলে সহকর্মীর সাথে আলোচনা করা, তার কাছ থেকে উপদেশ এবং সাহায্য চাওয়াটা সবচেয়ে বেশী উপকারী একটি উপায়। কাজের ক্ষেত্রে সহকর্মী জানাতে পারবেন কীভাবে কোন কাজ দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা যেতে পারে।

২/ পরিবার এবং বন্ধুদের সময় দিন

অফিসে ব্যস্ততার মাঝে নিশ্চয় খুব একটা সময় হবে না পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধবদের সাথে কথা বলার জন্য। তাই অফিস শেষে পরিবারের মানুষজন এবং বন্ধুদের সাথে দারুণ কিছু সময় কাটানোর চেষ্টা করতে পারেন। এতে করে অফিসে অতিরিক্ত কাজের চাপের ফলে তৈরি হওয়া মানসিক চাপ কমে যাবে অনেকখানি।

৩/ নিয়মিতভাবে ব্যায়াম করুন

ব্যায়াম করার কথা শুনে ভ্রু কুচকালেও আধা ঘণ্টা সময় হাতে নিয়ে কিছু শারীরিক কসরত করার মাধ্যমে হার্ট এর কার্যক্রম বাড়ানো শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী হবে। প্রতিদিন সকালে আধা ঘণ্টার জন্য ব্যায়াম করলে মানসিকভাবে অনেক ফুরফুরে থাকতে পারবেন, কাজে ভালোমতো মনোযোগ দিতে পারবেন এবং কাজ করার উৎসাহ পাবেন।

৪/ ঘুমের সাইকেল ঠিক রাখুন

সকালে অফিস, কিন্তু তারপরেও রাত জেগে মুভি, সিরিজ দেখা, ফেসবুকে একটিভ থাকার মতো অভ্যাসগুলো একেবারেই ত্যাগ করতে হবে। যেকোন মানুষের জন্য দৈনিক আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ঘুমের পরিমাণ কম হলে অফিসে ঘুমের প্রবণতা দেখা দিতে থাকে। যা কাজের গতিতে ব্যঘাত ঘটায়। তাই প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে হবে দ্রুত, যেন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর নিজেকে খুব ফ্রেশ মনে হয়।

৫/ ব্যাল্যান্স ডায়েট করুন

খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসের উপরে স্বাস্থ্য এবং শারীরিক সুস্থতার অনেকটা নির্ভর করে। অফিসের মাঝে বাইরের আজেবাজে খাবার না খেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শারীরিকভাবে সুস্থ না থাকলে কোন কাজই ঠিকঠাকভাবে করা সম্ভব হয় না। এর মাঝে অফিসে কাজের চাপ থাকলে অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভবনা থাকে অনেক বেশী।

৬/ অসম্ভব কোন লক্ষ্য নির্ধারণ করা থেকে দূরে থাকুন

কাজের ক্ষেত্রে সবকিছু খুব হিসাব-নিকাশ করে ঠিক করতে হবে। এটা কোন অবাস্তব লক্ষ্য নয় এই বিষয়টা মাথাতে রেখে নিজের কাজের লক্ষ্য সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে শেখা খুব জরুরি। অহেতুক এবং অসম্ভব কোন লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেইরূপ কাজ না করতে পারলে নিজেকে যেমন মানসিক চাপের মাঝে পড়তে হবে, তেমনি অফিসে একটি বাজে রেকর্ড তৈরি হবে।

৭/ ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলুন

প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে যদি শুধুমাত্র নেতিবাচক দিকগুলো চোখে পরে তবে কাজ করার প্রতি উৎসাহ, উদ্দীপনা, আগ্রহ এবং ইচ্ছা কোনটাই তৈরি হবে না। তাই নিজের মাঝে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে হবে। অনেক বেশি কাজের চাপ থাকলেও নিজেকে বোঝাতে হবে যে, ‘আমি সকল কাজ শেষ করতে পারব’! নিজেকে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে কাজ করার প্রতি স্পৃহা এবং আগ্রহ অনেকখানি চলে আসে, ফলে তখন হাজার কাজের চাপের মাঝেও দিশেহারা ভাব তৈরি হবে না।

৮/ নিজের কাজকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করুন

সমগ্র মাসের পরিকল্পনা নিয়ে একদিনের জন্য বসলে সেটা অনেক বড় এবং অসম্ভব বলে মনে হতে থাকবে। কিন্তু সমগ্র কাজকে যদি সুন্দরভাবে প্রতি সপ্তাহে কাজে ভাগ করে নিয়ে আসা যায়, তবে সেটা অতো বেশী কঠিন এবং অসম্ভব বলে মনে হবে না। তখন কাজগুলো খুব বেশী  মানসিক চাপ তৈরি করতে পারবে না।

৯/ ছাড় দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করুন

অনেক সময় এমন হয়, অফিসের সময় পার হয়ে যাবার পরেও কাজ শেষ না হবার কারণে অফিসে থাকতে হয়, কাজ করতে হয়। সেক্ষেত্রে, এই ব্যাপারটিকে অতিরিক্ত চাপ হিসেবে না নিয়ে ইতিবাচকভাবে দেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। কাজ করার মধ্যে আনন্দ এবং অনুপ্রেরণা খুঁজে নিতে পারলে, কাজে বাড়তি সময় দেওয়াটা খুব একটা কষ্টকর মনে হবে না। তাই নিজের মধ্যে এই ছাড় দেওয়ার প্রবণতা তৈরি করতে হবে।

১০/ কাজের মাঝে ছোটখাটো বিরতি নিন

অফিসে একটানা কাজ করতে থাকলে নার্ভের উপরে অনেক বেশী চাপ পড়ে, যার ফলে মানসিক চাপ তৈরি হয়। সেক্ষেত্রে কাজের মাঝে অল্পকিছু সময়ের জন্য বিরতি নেওয়াটা খুব দরকার। এক কাপ চা এর সাথে সহকর্মীদের সাথে কাজের ব্যাপারে আলোচনা অথবা আড্ডা দেওয়ার ফলে মানসিক চাপ কমে যাবে অনেকখানি। এর ফলে, কাজে আরো ভালোভাবে মনোনিবেশ করা যাবে।

 

সূত্র: Helpguide.org  

(119) বার এই নিউজটি পড়া হয়েছে




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE